কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মধ্যেও ‘সাধ্যমতো করার’ বার্তা, বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজ্য বাজেট পেশের পর বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, নানা আর্থিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করেছে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেট পেশ করেন। বাজেটে একাধিক সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়। বাজেট পেশের পরই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বাজেটের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপগুলি রাজ্যের প্রান্তিক ও কর্মজীবী মানুষের আর্থিক স্বস্তি দেবে।
সুপ্রিম কোর্টের ডিএ নির্দেশ নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী
ডিএ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রায়ের সম্পূর্ণ কপি এখনও রাজ্য সরকারের হাতে আসেনি। তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তিনি জানান, মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা বিষয়টি পর্যালোচনা করে রাজ্য সরকারকে মতামত দেবে।
ডিএ বিতর্কে পেনশনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এখনও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পেনশন দিয়ে চলেছে, যা বহু রাজ্যে আর চালু নেই। পেনশন বন্ধ করলে সরকারের ব্যয় কমতে পারত, কিন্তু পেনশনভোগীদের স্বার্থের কথা ভেবেই রাজ্য সরকার সেই পথে যায়নি বলে জানান তিনি।
বেকার যুবকদের জন্য নতুন ভাতা
বাজেটে ঘোষিত বেকার ভাতা প্রকল্প প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই ভাতা সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে। যাঁরা বিভিন্ন স্কলারশিপ পাচ্ছেন, তাঁদের সেই সুবিধাও বহাল থাকবে।
কেন্দ্রকে কটাক্ষ, বঞ্চনার অভিযোগ
সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের কাছে এখনও রাজ্যের বিপুল অঙ্কের অর্থ বকেয়া রয়েছে। তবুও রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে দাবি
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্রীয় রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। পাশাপাশি রাজ্যে লক্ষাধিক মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে রাজ্য সরকার এই বাজেটকে বাস্তবসম্মত ও জনমুখী করার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।