নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা, দেশে ফেরার শর্ত দিয়েছেন শেখ হাসিনা
ঢাকা- নির্বাসিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। নয়াদিল্লিতে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, তাঁর দল আওয়ামি লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি না দিলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তিনি বলেছেন, “বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া কোনও নির্বাচনই বৈধ হতে পারে না।”
তবে সমালোচকরা বলছেন, পূর্বে বহু নির্বাচনে আওয়ামি লীগ জিতলেও বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা এবং হয়রানির কারণে তারা কার্যকরভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। নির্বাসনে থেকে হাসিনা দাবি করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর অডিয়ো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা ‘প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন ও বিকৃত’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য আসলে তাঁর সরকারের পতনের দায় এড়ানোর চেষ্টা। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁর সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়, এবং এই বিক্ষোভ দমনকালে অন্তত ১,৪০০ জন প্রাণ হারান, যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হাসিনা অনুপস্থিত অবস্থায় বিচারাধীন, এবং আগামী ১৩ নভেম্বর তাঁর রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনের বাধা সৃষ্টি করতে বড় শক্তি কাজ করছে, ভেতর ও বাইরে থেকে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই চক্রান্তের পেছনে মূলত হাসিনার সমর্থকরা রয়েছেন যারা দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা মেনে নিতে পারছে না। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যত বাধা আসুক, নির্বাচন হবে এবং সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ, বন্দুক নয়।”
মানবাধিকার সংস্থাগুলোও আওয়ামি লীগকে ভোটে অংশগ্রহণ থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়াকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে অপরিহার্য’ মনে করছে। তারা বলছে, সহিংস রাজনীতিতে অভিযুক্তদের অস্থায়ীভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রথম ধাপ।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার জন্যও শর্ত রেখেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু বৈধ সরকারের অধীনে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় থাকলে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। এছাড়া আওয়ামি লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে গঠিত কোনো সরকারের অধীনে তিনি ফিরবেন না। আপাতত তিনি ভারতে অবস্থান করবেন এবং ভবিষ্যতে আওয়ামি লীগের নেতৃত্বে নিজে বা পরিবারের কেউ নাও থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।