৩২ ভোটের লড়াই ও গণতন্ত্রের পরীক্ষা: ব্রিজেন্দ্র সিং বনাম ভোট চুরি
হরিয়ানার উচানা বিধানসভা আসনে কংগ্রেস প্রার্থী ও প্রাক্তন IAS অফিসার ব্রিজেন্দ্র সিং মাত্র ৩২ ভোটে পরাজিত হন। ১,৩৭৭টি ব্যালট ভোটের মধ্যে ২১৫টি ভোট “অবৈধ” ঘোষণা করে বাদ দেওয়া হয়। অবশিষ্ট ১,১৫৮টি ভোটে ব্রিজেন্দ্র পান ৬৩৬টি। এতটাই কাছাকাছি ছিল লড়াই।
এই ২১৫টি বাতিল ব্যালট ভোট নিয়ে তিনি পুনরায় গণনার ও তদন্তের আবেদন জানান। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী, যিনি এই ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন, সেই ভোট পুনর্গণনার প্রতিটি চেষ্টা প্রতিহত করেন।
প্রশ্ন ওঠে — যদি জয় সুনিশ্চিত হয়, তাহলে তদন্তে আপত্তি কোথায়? মোদীজির অনুগামীদের তো জয়লাভে আত্মবিশ্বাস থাকার কথা। তাহলে হাইকোর্টে যাওয়ার আগেই গণনা পরীক্ষা করতে আপত্তি কেন?
আগেও দেখা গেছে — চণ্ডীগড়ের মেয়র নির্বাচনে গণনা কর্মকর্তা ব্যালটে কালি লাগিয়ে নিজের হাতে ভোট বাতিল করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে পরে আদালতের নির্দেশে ফলাফল পরিবর্তিত হয়।
এই প্রবণতা চিন্তার। ভোটে কারচুপি এখন আর শুধু ইভিএমে সীমাবদ্ধ নয় — ব্যালট ভোট, ফর্ম-২০, ফলাফলের ঘোষণাপত্র, সব জায়গায় জালিয়াতির অভিযোগ আসছে। নাম কেটে ভোটার বাদ, ভুয়া ভোটার জুড়েছে — কিন্তু আসন চুরি আরও গুরুতর।
এই চক্রে অংশ নিচ্ছেন কিছু অসৎ সরকারি কর্মচারী, রিটার্নিং অফিসার, এবং নির্বাচন দপ্তরের কর্মীরা।
২০১৮ সালের গুজরাট নির্বাচনে ২০টিরও বেশি আসনে পিটিশন হয়েছিল। কিন্তু শুনানি শেষ হতে ৫ বছর লেগেছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের ভূমিকাটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এক বছরের মধ্যে শুনানি শেষ করে এখন রায়ের দ্বারপ্রান্তে। আগামীকাল, ২৩ সেপ্টেম্বর, উচ্চ আদালতের রায় ঘোষণা হবে — এই রায় হতে পারে গণতন্ত্র রক্ষার এক বড় পদক্ষেপ।