আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কার কথা জানালেন খামেনি, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সংঘাতকে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’-এ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। সোমবার ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি ইরানিদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও দৃঢ়তা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
খামেনি বলেন, ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করে না, তবে দেশটির বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে তার জবাব কঠোর হবে এবং তা সীমিত পর্যায়ে আটকে থাকবে না। তার ভাষায়, ইরানের প্রকৃত শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতায় নয়, বরং জনগণের মানসিক দৃঢ়তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার মধ্যেই নিহিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই বক্তব্য দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের মূল বিরোধের চরিত্র গত কয়েক দশকেও বদলায়নি। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ইরানকে নিজেদের প্রভাব বলয়ে ফিরিয়ে আনতে চায়, যা ইরানি জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
খামেনি আরও দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই বিদেশি শক্তিগুলো ইরানের পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছে, তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তার জনসমক্ষে উপস্থিতি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর এবং নিরাপত্তা হুমকি বাড়ায় তার প্রকাশ্য কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবারও বার্ষিক একটি প্রতীকী সামরিক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
ভাষণে খামেনি সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে সেগুলোকে বিদেশি শক্তির মদদে পরিচালিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন। তার দাবি, এসব আন্দোলন ছিল পরিকল্পিত ও সংগঠিত, যার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোকে অস্থিতিশীল করা।
তিনি বলেন, এই আন্দোলনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা ছিল এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল সহিংসতা উসকে দিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো। খামেনির বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশকে প্রশিক্ষণ ও অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আড়ালে সহিংস কার্যক্রম চালানো হয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য ছিল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা, যাতে অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা ব্যাহত হয়। তবে তিনি দাবি করেন, জনগণের সমর্থনেই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ভাষণের অভ্যন্তরীণ অংশে তিনি ইরানিদের বিপ্লববার্ষিকীর কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিদেশি শক্তির ‘চাপ ও লোভ’ মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর বার্তা দেবে।
ভাষণের শেষাংশে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ কোনো নির্দিষ্ট ইস্যু বা সরকারের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি কাঠামোগত ও দীর্ঘদিনের। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রসঙ্গকে তিনি রাজনৈতিক অজুহাত বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, প্রকৃত দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু হলো ইরানের স্বাধীন নীতিপথ।