গ্রুপ ‘বি’ আধিকারিকদের তালিকা বিকৃতির অভিযোগে সরব নবান্ন, পরোক্ষে নিশানায় নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া গ্রুপ ‘বি’ আধিকারিকদের নামের ডেটাবেস ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হচ্ছে— এমন অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন। রাজ্য সরকারের দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তালিকার তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিশনে পাঠানো গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা অর্থ দফতরের ৬ অক্টোবর ২০২০-এর স্মারকলিপিতে নির্ধারিত বেতন-স্তর ও শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ড মেনেই প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই স্মারকলিপি অনুযায়ী রাজ্য সরকারি কর্মীদের গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’— এই চার ভাগে ভাগ করা রয়েছে। নবান্নের বক্তব্য, নির্ধারিত নিয়ম থেকে কোনও রকম বিচ্যুতি না করেই গ্রুপ ‘বি’ আধিকারিকদের তালিকা তৈরি ও জমা দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে যে অনিয়ম বা হেরফেরের অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছে রাজ্য।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ৪ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে অভিযোগ করা হয়, পর্যাপ্ত যোগ্য আধিকারিক না পাওয়ায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সমস্যা হচ্ছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আদালতে উপস্থিত থেকে জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য অফিসার দিতে রাজ্য প্রস্তুত।
এর পর ৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্য জানায়, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য ৮৫০৫ জন গ্রুপ ‘বি’ আধিকারিক দেওয়া হবে। তবে ৯ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়, সম্পূর্ণ তালিকাটি আগে কমিশনের কাছে পাঠানো হয়নি, কারণ কমিশনের সম্মতির অপেক্ষা করা হচ্ছিল। শুনানির সময়ই সেই তালিকা কমিশনের আইনজীবীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে রাজ্য সরকারের তরফে ডেটাবেস বিকৃতির অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক উসকে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।