এসআইআর শুনানির নোটিসে নথির খোঁজে দৌড়, বাংলাজুড়ে জমির সার্টিফায়েড কপির আবেদন বেড়েছে
এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) শুনানির নোটিস পেয়ে রাজ্যের বহু ভোটার নথিপত্র জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। নামের বানানে সামান্য অমিল, পারিবারিক তথ্যের অসঙ্গতি বা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের অভাবে অনেকেই ‘সন্দেহজনক ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। ফলে ভোটাধিকার বজায় রাখতে বিভিন্ন সরকারি নথির খোঁজে ছুটছেন সাধারণ মানুষ।
এমনই এক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এক যুবক শুনানির নোটিস পান কারণ তাঁর পারিবারিক নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বাবার মৃত্যু বহু বছর আগে, মায়ের পদবি পরিবর্তন না হওয়া—এই তথ্যগত গরমিলের জেরে তাঁকে নিজের মাতৃত্ব-সম্পর্ক প্রমাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। জন্ম শংসাপত্র না থাকায় শেষ পর্যন্ত জমির দলিলের সার্টিফায়েড কপিকেই একমাত্র ভরসা হিসেবে বেছে নিতে হয় তাঁকে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাসে জমির দলিলের সার্টিফায়েড কপি তোলার আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই তিন মাসে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে বলে দাবি। যেখানে সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার আবেদন আসে, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজারে পৌঁছেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবরে যেখানে আবেদন ছিল প্রায় ৫৩ হাজার, নভেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ৮০ হাজারে পৌঁছয়। ডিসেম্বর মাসে আবেদন ছাড়ায় ৮৬ হাজার এবং জানুয়ারিতেও তা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় উচ্চ ছিল। সংশ্লিষ্ট দফতরের মতে, জমি ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্ক ও পরিচয় প্রমাণের প্রয়োজনেই অনেকে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করছেন, যার সঙ্গে এসআইআর শুনানির যোগ রয়েছে।
নামের বানানে অমিল বা তথ্যে সামান্য অসঙ্গতির কারণে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ দেখিয়ে নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের এক আধিকারিকের কথায়, অনিশ্চয়তার জেরে অনেকেই সম্ভাব্য সব নথি জোগাড় করে শুনানিতে হাজির হচ্ছেন।
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, আবাসিক শংসাপত্র, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট-সহ একাধিক নথি নিয়ে বিভ্রান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে জমির দলিলের সার্টিফায়েড কপি হাতে পেয়ে কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তি মিলছে। ওই নথির মাধ্যমেই অনেকে পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম বজায় রাখার চেষ্টা