সীমান্ত পেরোনো সন্ত্রাস মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান সৌদি আরবের
সীমান্ত অতিক্রমকারী সন্ত্রাসবাদকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘আইএস দমন আন্তর্জাতিক জোট’-এর রাজনৈতিক পরিচালকদের বৈঠকে সৌদি নেতৃত্ব এই অবস্থান স্পষ্ট করে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ আল-খুরাইজি এবং সিরিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সন্ত্রাস ও চরমপন্থা মোকাবিলায় সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, আইএসসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন সময়ের সঙ্গে নিজেদের কৌশল ও পদ্ধতি বদলাতে সক্ষম হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, দুর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং মানবিক সংকটকে কাজে লাগিয়েই তারা নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে। এ কারণে এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্য ও সমন্বয় অপরিহার্য।
তিনি আইএস দমন আন্তর্জাতিক জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানান এবং এটিকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। সৌদি আরব সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় দেশটির সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে আরও বলা হয়, সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের অবশিষ্ট উপস্থিতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে, যেখানে নিরাপত্তা, মানবিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ হুমকি প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
সৌদি পক্ষ ইরাকের ভূমিকার প্রশংসা করে জানায়, দেশটি আন্তর্জাতিক জোটের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে সিরিয়ায় আটক আইএস সদস্য ও তাদের পরিবারদের জন্য ব্যবহৃত কিছু শিবির ও আটককেন্দ্রের দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগকেও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া সিরীয় সরকার ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে অস্ত্রবিরতি ও প্রশাসনিক সমন্বয় সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘোষণাকেও স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির মতে, এসব উদ্যোগ সিরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে সহায়ক হতে পারে।
বৈঠকের পাশাপাশি সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। তিনি তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও জার্মানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ঐক্য বজায় রেখে কাজ করাই বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র কার্যকর পথ।